কোটটাই
সাহাবুদ্দিন সাহেব খুবই ঝামেলায় আছেন। কোনো মতোই কোটটাই পড়তে পারছেন না। আজকে হলো উনার স্ত্রীর ভাইস্তার বৌভাত। অনুষ্ঠানের ড্রেসকোড হলো কোটটাই। কয়েকদিন আগেই সব মাপ দিয়ে বানিয়েছেন, এখন লাগছে না। বিয়ে বাড়িতে সবাই এরই মধ্যে কোটটাই পরে ঘুরছে। উনি কি করবেন বুঝতে পারছেন না। রেহানার মাও নেই, উনাকে উদ্ধার করবেন। চিন্তার ছাপ চেহারায় স্পষ্ট। উনার চিন্তিত মুখ দেখে ছেলের মামা এগিয়ে আসলো,
আপনি এখনো রেডি হোন নাই দুলা ভাই!
উনি কাঁচুমাচু হয়ে বললেন,
একটা বিপদ হয়েছে, কয়েক দিন আগেই মাপ দিয়ে কোটটাই বানালাম, এখন লাগছে না, কি করা যায় বলতো জাহিদ?
কই দেখি দেখান দেখি, জাহিদ দেখতে চায়,
অরে দুলা ভাই, এইটা আপনার হয় কেমনে, এতো অনেক ছোট, মনে হয় কারো সাথে কোটটাই বদল হইয়া গেছে, দাঁড়ান দেখি কি করা যায়। এই বলে জাহিদ উনার কোটটাই খুঁজতে গেলো। যাক সাহাবুদ্দিন সাহেবের কিঞ্চিৎ টেনশন কমলো। কিছুক্ষন পরেই, জাহিদ একই রঙের আরেকটি কোটটাই নিয়ে আসলো।
দেখেন তো এইটা আপনার নাকি, গায়ে দেন দেখি।
সাহাবুদ্দিন সাহেব গায়ে দিতেই উনার চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেলো।
তুমি জব্বর বাঁচালে ভায়া। কি বলে যে ধন্যবাদ দিব।
আরে বলেন কি, কোনো সমস্যা নাই, কোনো ছোট ছেলে পেলে হয়তো এখন থেকে নিয়ে অন্য খানে রেখেছিলো, যাইহোক আপনি রেডি হন তাড়াতাড়ি। এই বলে জাহিদ চলে গেলো।
খুশি মনে সাহাবুদ্দিন সাহেব দ্রুত কোটটাই পড়তে লাগলেন। প্যান্ট পড়া শেষে আরেক বিপত্তি, প্যান্টের জন্য বেল্ট আনতে ভুলে গেছেন। উনি বুঝতে পারছেন না কি হচ্ছে। প্যান্টের এক কোনায় ধরে উনি জাহিদ খুঁজতে লাগলেন..
No comments:
Post a Comment